আশ্বাস

এই বিশ-বিশ বছরটা কিরকম  অপ্রত্যাশিত একটা ঘটনা-চক্র শুরু করেছে | এখনো যেন বিশ্বাস করা যায় না সারা বিশ্ব জুড়ে সবাই ঘর-বন্দি হয়ে এক অদৃশ্য শত্রূর সঙ্গে লড়াই করছে | কি যে পরিণাম হবে তা কেউই জানে না | অফিস যাওয়া আপাতত স্থগিদ | রেস্টুরেন্টে বসে  খাওয়া, বন্ধুদের বাড়ি আড্ডা মারতে যাওয়া, নতুন দেশ ভ্রমণ ইত্যাদি মোটামুটি বন্ধই বলা যেতে পারে | চার মাস ধরে অনেক পরিবর্তন এসেছে দৈনন্দিন জীবনে | আমাদের পরিচিতি হয়েছে “নিউ নরমাল” এর সঙ্গে | বাড়িতে থেকে অফিসের কাজ সেরে দু’পা হেঁটে রান্না ঘরে ঢুকে পড়েছি | ডিনারে নিত্যনতুন রকমারি খাবার বানিয়ে একঘেয়েমি কাটানোর চেষ্টা করেছি | জুম্ মিটিং করেই আড্ডা দিয়েছি প্রতি শনিবার |

কলোরাডোর বরফে ঢাকা পর্বতমালা  আগের মতো একই আছে | বসন্তে গাছের ডালে ডালে নতুন পাতা এসেছে | পিছনের বাগানে পেওনি , আইরিস ও  গোলাপ ফুল ফুটে আমাদের মন ভরিয়ে দিয়েছে | দিনের মধ্যে একবার মাস্ক পরে যখন হাঁটতে যাই, তখন দেখি কত রংবেরঙের পাখি উড়ে বেড়েছে সেই আগের মতো | সামনের লেকে ছোট বড় অনেক আকারের মাছ সাতার কাটছে নিশ্চিন্তে | বড় বোর্ডে ওয়ার্নিং লাগানো —” Warning! Blue-green Algae. Dogs must not enter the water. No Fishing!” মাছেরাও পরমানন্দে সংসারবৃদ্ধির কাজে নিযুক্ত হয়েছে | একটা ক্ষীণ আশা জেগেছিল যে গরম পড়লে covid19 -এর থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে| গরমকাল এলো কিন্তু তবুও মুক্তি পাওয়া গেলো না|

ওদিকে কলিকাতাতে  আমফান সাইক্লোন এসে তছনছ করে গেলো সারা শহরটাকে | মা-এর মোবাইল ফোনে চেষ্টা করে করে যখন কিছুতেই পেলাম না তখন দুশ্চিন্তা একদম চরমে উঠে গেছে | Covid -এর লোকডাউনে মা ও বাবা বিরাটির বাড়িতে থাকছেন | কাজের লোকেদের মাসের মাইনে দিয়েও  কাজে আসতে বারণ করে দিয়েছেন | বয়স্ক দুইজনকে সাহায্য করার মতো তাঁদের বাড়িতে আর কেউ ছিল না | দাদা-বৌদি আর ওদের ছোট মেয়ে উল্টোডাঙার চার বেডরুম ফ্লাট-এ থাকছিলো | লোকডাউন-এ আশা যাওয়া বন্ধ | শুধু ফোনে কথা হচ্ছিলো | অন্য কোনো উপায়ে না দেখে, আমি দাদাকে ফোনে চেষ্টা করলাম| “ফোন করে মা কে পাচ্ছিনা রে | তুই কি জানিস মা বাবা কেমন আছে ?” দাদা জানালো, “আমিও চেষ্টা করেছি গত দুই ঘন্টা ধরে | এই সাইক্লোনের ধাক্কাতে টেলিফোন লাইনগুলো কাজ করছে না | আমাদের শুধু Wi -Fi  কাজ করছে তাই তুই আমাকে ফোনে পেলি| ” “ও তাই নাকি?  দাদা খবর পেলেই জানাবি আমাকে, কেমন? ” পরে, আরো দুঘন্টা পরে দাদা ফোনে করে জানালো মা আর বাবাদের সঙ্গে কথা হয়েছে তার | ওঁদের তিরিশ ঘন্টা ইলেকট্রিসিটি ছিল না | বাড়িতে জল ঢুকে যাওয়াতে ওঁরা মধ্যরাত পর্যন্ত জলপরিষ্কার করেছেন| এখন একটু বিশ্রাম করছেন| পরের দিন মা-এর সঙ্গে কথা না বলতে পারা পর্যন্ত মনটা অস্থির হয়ে ছিল |

মন সে কি জিনিস? মন ভালো থাকলে চারদিকের সব কিছুই সুন্দর লাগে | মন ভালো না থাকলে চোখের সামনে কেউ সৌন্দর্য্যের ডালি সাজালেও সেটা উপভোগ করা যায় না | এই মনই স্বর্গ-সুখ দিতে পারে বা অন্যদিকে নরকযন্ত্রণা | মন তো আমাদের বাঁধা মানেনা | কত রকম চিন্তা যে মনে আসে তা চেষ্টা করে  কি নিয়ন্ত্রণ করা যায় ? মাকড়সার মতো নিজের জালে নিজেই জড়িয়ে যায় | নিজের মনকে কিভাবে বশ করা যাবে? পাখির মতো যেখানে সেখানে উড়ে চলে যায় | তার পিছনে দৌড়ে কি তার নাগাল পাওয়া যাবে?

পরের দিন মা বললেন কলকাতা শহরের অনেক পুরোনো গাছ এই সাইক্লোন উপড়ে পরে গেছে | ইলেকট্রিসিটি লাইনের উপর গাছ পরে যাওয়াতে,  পাওয়ার কাট ও জলের অসুবিধা হয়েছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় | মহামারী ও সাইক্লোন — একের পর এক দুর্যোগ আসাতে আমার মনটা বিষন্নতায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে | আমার মা তার মধ্যেও কৃতজ্ঞ যে সব ঝড়ঝঞ্ঝার সম্মুখীন হয়েও তাঁরা শরীর ওর মনের দিক দিয়ে স্বস্থ আছেন | মা ও বাবা রোজ সকালে প্রাণায়াম আর মৃত্যুঞ্জয়ী মন্ত্র পাঠ  করেন | শ্রী শ্রী রবিশঙ্করজির আর্ট অফ লিভিং -এর কোর্স ওঁরা  কিছু বছর আগেই করেছেন | আমার মামা আর মামীও একই কোর্স করেছেন |

মামা আর মামীর সঙ্গে আমার একটা প্রাণের সম্পর্ক আছে | দুজনই একদম অমায়িক ভালোমানুষ বলতে যা বোঝায় তাই | কলেজে পড়ার সময় বেশ কিছু মাস আমি বারাকপুরে মামারবাড়ি থেকে ইন্টার্নশীপ করেছিলাম | ট্রেনে চড়ে রোজ বারাকপুরে থেকে টিটাগড়ে যেতাম  CESC র পাওয়ার-প্লান্ট এ ট্রেনিং করতে | সন্ধ্যে বেলা যখন ক্লান্ত হয়ে ফিরতাম তখন মামী-ই আমার মায়ের মতো আদর করে ভালো- মন্দ  জলখাবার তৈরী করে রাখতেন  | সারাদিনের সব গল্প মামীকেই বলতাম |মামী এখনো আমাকে নিজের মেয়ের মতো স্নেহ করেন |

আমার মামাতো বোন বিয়ে করে এখন দিল্লিতে থাকে | এই মাসের শুরুতে ওর জন্মদিনে ওকে ফোনে করেছিলাম | “শুভ জন্মদিন পিউ! আজ কি করছিস?” “দিদি, আর কি করবো? Covid -19 এর জন্য কিছুই করা যাচ্ছে না | তোমাদের ওখানেও তো অনেকে আক্রান্ত হচ্ছে| খুব সাবধানে থেকো |” “হ্যাঁ রে | মামী এখন কেমন আছে? হাঁটা চলা করছে?” ” হ্যাঁ গো, বাড়িতেই হাঁটাহাটি করে | মা তো এখন বাড়ির সব কাজ নিজেই করে | কাজের লোকেদের আসতে বারণ করে দিয়েছে | শুধু ফিজিওথেরাপিস্ট আসে, সপ্তাহে একবার |” “ও তাই| এতো খুবই ভালো কথা | মামী এতো কিছু সামলাচ্ছে এটাই অবাক ব্যাপার |”

গতবছর আমার মামী হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন | রাতের দিকে পেটের গন্ডগোল থেকে পানিশূন্যতা অনুভব করছিলেন | তারপর সকালে, গলার নিচের সারা শরীর অবশ ও নিস্তেজ হয়ে পরে| হাত – পা কিছুই আর নাড়াতে পারছিলেন না | ভাগ্যক্রমে বারাকপুরের ডাক্তার একদম সঠিক ডায়াগনসিস করে কলিকাতার হাসপাতালে ভর্তি করে দেন | মামীর হয়েছিল  Guillain-Barré সিনড্রোম|খুব বিরল এই স্নায়ু-রোগ | সময় মতো ওষুধ আর ইঞ্জেকশনের জন্যই মামী সুস্থ হয়ে উঠতে পেরেছিলেন | মাত্র কিছু ঘন্টার এদিক বা ওদিক হলেই সারা শরীর paralyzed হয়ে যেতো|

পরে মায়ের সঙ্গে ফোনে মামীর শারীরিক উন্নতির কথা আলোচনা করলাম | Covid -19  এর দরুন মানসিক চাপ কমাতে আমি ইদানিং নিয়মিত ধ্যান আর প্রাণায়াম করছি | আমিও অনলাইন আর্ট অফ লিভিং এর ক্লাস নিয়েছি | মা এটা শুনে খুব খুশি হলেন| তিনি যে নিজেও ক্লাস করে  উপকার পেয়েচেন সেটা আমরা দুজনেই একমত হলাম |

শুক্রবার অফিসের কাজ শেষ করে মনটা বেশ হালকা লাগছে | আজকে ভাবছি একটা হিন্দি সিনেমা দেখবো আর আয়েশ করবো | ফোনে মেসেজ পড়ছি | স্কুলের বন্ধুরা আগামীকালকে জুম্-এ আড্ডা দেবে তাই সময় ঠিক করছে | মায়ের একটা মেসেজ  এসেছে | “তোমার মামী পেটের অসুখে বেশ কিছুদিন কষ্ট পাচ্ছে | ওষুধে কমেনি |” আবার  কি হলো মামীর ? এই তো আমরা বলাবলি করছিলাম যে ভালো আছেন | হয়তো তেমন কিছু হয়নি | আমি কালকেই খবর নেবো | আমি এই ভেবে রাতের ডিনার করে সিনেমা দেখতে বসে গেলাম | রাতে ভালো ঘুম হলো না | বুকের বামদিকে একটু ব্যথা করছিলো |

সকালে উঠেই মাকে ফোনে করলাম | ” কেমন আছে মামী এখন ?” “তোমার মামীর শরীর একদম ভালো নেই | শরীর নিস্তেজ হয়ে গেছে | মুখটা ফুলে গেছে | পাপু বারাকপুরে থেকে তোমার মামীকে এম্বুলেন্স এ নিয়ে এসে উল্টাডাঙার হাসপাতালে ভর্তি করেছে | ডাক্তার Covid -19   বলে সন্দেহ করছে | আর বলেছে যে নিয়ে আসতে বেশি দেরি করে ফেলেছেন |”

মায়ের কথা গুলো শুনে আমার গলাটা শুকিয়ে যাচ্ছিলো | মাথাটা  ঠিক করে কাজ করছিলো না | এই কি শেষ ? কি আপসোস হচ্ছে গত বছর কলিকাতা যখন গেছিলাম তখন মামী সবে সেরে উঠেছেন | তাই বারাকপুরের থেকে উল্টোডাঙা আসা তাঁর সম্ভব হয়নি | কিন্তু আমি তো সময় করে যেতে পারতাম, বারাকপুরে | মা-বাবার পঞ্চাশতম বিবাহ-বার্ষিকীর অনেক কাজ বাকি ছিল তাই সময় করে উঠতে পারিনি| এখন কিছুতেই মনকে বোঝাতে পারছিনা যে মামীকে আর কোনদিন নাও দেখতে পারি| অনেক চেষ্টা করে মাকে বললাম ” চিন্তা করো না, মা | ভগবানের কাছে এই  প্রার্থনা করেছি যে যা হবে যেন ভালো হয়|”

ফোনটা রেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে খানিকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে থাকলাম | এই Covid  -এর কটা মাস যদি একটা জিনিস শিখিয়ে থাকে সেটা হচ্ছেই এই যে মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী আর মৃত্যু আমাদের নিয়ন্ত্রণ মানে না| অসহায় হয়ে বসে থেকে তারপর দৌড়ে ঠাকুর ঘরে গেলাম | বিগ্রহের সামনে করজোড়ে মিনতি করলাম | শ্রদ্ধার সঙ্গে বললাম যে তোমার যা ইচ্ছে আমি যেন তা আমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করতে পারি | আমার স্বামী  ভোরবেলা  একটা ধুপকাঠি জ্বালায়েছিল  বিগ্রহের সামনে | আমি ছোটবেলা একটা দুর্যোগের দিন মনে করে একটা অভূতপূর্ব জিনিস করলাম | ধূপের ছাই একটু দুআঙুলের মধ্যে নিয়ে ঠাকুরের পায়ে ছোয়ালাম | তারপর ভক্তি ভোরে সেটা খেয়ে নিলাম | মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস হলো যে নিয়তির সম্মুখীন হতে পারবো | পরে অবশ্য ছোটোখাটো কারণে আমি আমার স্বামীর সঙ্গে তর্ক করে আলাদা একটা ঘরে বসে থাকলাম | বন্ধুরা মেসেজ করলো কিন্তু আড্ডা দিতে আর ইচ্ছে করলো না | একা একা বসে অনেক গান শুনলাম |

ইন্ডিয়াতে যখন সকাল হলো তখন সাহস করে মামাতো বোনকে ফোনে করলাম | ও কি কান্নাকাটি করছে? ওর গলা শুনে বুঝলাম ও নিজের মনকে শান্ত রাখতে পেরেছে | “পিউ, তুই কি কলিকাতা যাবি?” “কি করে যাবো দিদি? সৌগতর একদম ইমিউনিটি কম | আমি গেলে ও অসুস্থ হয়ে যাবে | তা ছাড়া Covid  -এর জন্য তো আমাকে চোদ্দ দিন নিজেকে  quarantine করতে হবে | আমি শুধু আশা করেছি যে বাবা-র যেন Covid -19 না হয় | একটা জিনিস অদ্ভূৎ লাগছে দিদি, মা তো কোনোদিন বাড়ি থেকে বাইরে যায় নি|  মায়ের Covid কি করে হলো ?” “সত্যি, Covid কি ভাবে ছড়াচ্ছে সেটা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না |”

এরপর আমি মামাকে ফোনে করলাম | একটু হালকা কাশি হয়েছে মামার | আমি সাবধানতার জন্য যা যা জানি সবকিছু বললাম করতে | শুনলাম মামীর সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না | এমন কি মামী কে মোবাইল ফোনে ও রাখতে দেয়নি | তাই মামীর সঙ্গে সরাসরি কথাও বলতে দিচ্ছে না | Sodium লেভেল কমে গেছে বলে saline ড্রিপ দিচ্ছে | নার্সরা বলছে যে মামী কোনো কথা বলছেন না | Covid এর জন্য পরীক্ষা করতে দিয়েছে | এখনো রেজাল্ট পাওয়া যায়নি |

দুদিন অপেক্ষা করে অবশেষে একটা আশার কিরণ পেলাম | Covid   টেস্ট রেজাল্ট  নেগেটিভ এসেছে| দাদা রোজ ডাক্তারের  সাথে দেখা করেছে কিন্তু মামীর সঙ্গে দেখা করতে পারছে না | মা নার্সদের ফোনে করে খবর নিচ্ছে কিন্তু মামীর সঙ্গে কথা বলতে পারছে না | শুনলাম আজকে মামী একটু খেয়েছেন | ইতিমধ্যে আমার মামা বারাকপুরে ফিরে গেছেন |

আজ শুনলাম যে ডাক্তার আবার টেস্ট করতে চাইছে | হঠাৎ করে আমার মনে একটা অদ্ভুত চিন্তা এসে জুড়ে বসলো | মামী কি সত্যি সুস্থ হচ্ছে? ডাক্তার কি সত্যি কথা জানাচ্ছে? কিছুদিন পরে অন্য কথা বলবে না তো? চোখে সশরীরে না দেখে, কানে কণ্ঠস্বর না শুনে কি সত্যি বিশ্বাস করা যায়? হে ভগবান কি করা উচিত? 

মামীর যেরকম শরীরের অবস্থা হয়েছিল তাতে হাসপাতালে না আনলে মারাত্মক পরিস্থিতি হতো | অথচ, এখন সত্যি মামী কেমন আছে তা সঠিক নির্ণয় করতে পারছিনা | ডাক্তার আর নার্সদের বিশ্বাস করলে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে | আর বিশ্বাস না করতে পারলে সর্বনাশ | লম্বা লম্বা শ্বাস নিতে নিতে আমি মনে মনে বুঝতে পারলাম যে ভালো পথ একটাই আছে | সেই পথটি হলো মানুষের উপর বিশ্বাস করা | এতে ঝুঁকি আছে বটে কিন্তু অন্য পথটা শুধু দুর্ভোগের পথ | সত্যি জানার জন্য সঠিক পথে অপেক্ষা করে থাকতে হবে আমাকে |

প্রায় একরকম শ্বাসরোধ করে অপেক্ষা করলাম আরো দুইদিন | শুনলাম মামী নার্সদের বলেছে যে উনি বাড়ি যেতে চান | মা এই খবর শুনে খুশি হয়ে বললেন যে ব্রেন তাহলে ঠিক করে কাজ করেছে| এদিকে আমার মামা আর মা দুইজনই খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন | দুশ্চিন্তায় মায়ের পেটের সমস্যা শুরু হয়ে গেছে | মামা কে ফোন করে বুঝলাম যে মামার মনটা উদ্বিগ্ন হয়ে আছে কবে একটু মামীর সঙ্গে কথা বলতে পারবে — সত্যিই শরীর কেমন আছে| তবে একটা ভালো ব্যাপার লক্ষ্য করলাম যে মামা আর কাশছেন না|

পরেরদিন ঘুম ভাঙলো মায়ের ফোন পেয়ে | অবশেষে দ্বিতীয়বার Covid টেস্ট রেজাল্ট এসেছে, নেগেটিভ| আমি বললাম, “শিগগিরি মামীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিলেই ভালো |”

দুঘন্টা পরে মা আমাকে মেসেজ করলেন যে দাদা মামীর সঙ্গে দেখা করেছে| মামী বিছানাতে উঠে বসে ওর সাথে কথা বলেছেন | আমি এই খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঠাকুর ঘরে গিয়ে প্রণাম করলাম| আমরা সকলেই আশ্বাস পেলাম যে মামী শিগ্রই বাড়ি ফিরে আসতে পারবেন |

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s